খুলনার ৩৬ আসনে লড়াই জমবে বিএনপি ও জামায়াতে 


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ১২:২৯ এএম
খুলনার ৩৬ আসনে লড়াই জমবে বিএনপি ও জামায়াতে 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের আসনগুলোতে ভোটের মাঠে প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই জমে উঠেছে। এর মধ্যে প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি হবে বলে ভোটের মাঠের পর্যবেক্ষণ।
বিভাগের ১০টি জেলা এবং খুলনা মহানগরীর ৩৬টি সংসদীয় আসনে মোট ২০৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মাঠ পর্যায়ের মূল্যায়ন এবং ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিএনপি প্রার্থীরা বর্তমানে ১৩টি আসনে এগিয়ে আছেন এবং জামায়াত প্রার্থীরা ১১টি আসনে এগিয়ে।

বাকি ১২টি আসনে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এর পেছনে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা কাজ করছে।

ভোটাররা মনে করছেন, দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভোট বিভক্তির কারণে বিএনপি বেশ কয়েকটি জয়যোগ্য আসন হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে বিএনপি চারটিতে (খুলনা-১ থেকে খুলনা-৪) এগিয়ে রয়েছে, অন্যদিকে খুলনা-৫ এবং খুলনা-৬ আসনে জামায়াতের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।

সংখ্যালঘু প্রার্থী এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে ভোট বিভক্তি বেশ কয়েকটি আসনে নির্ধারক ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে দু’টিতে বিএনপি, একটিতে জামায়াত এবং একটি আসনে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে। বিদ্রোহী বিএনপি প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে অপ্রত্যাশিত করে তুলেছে।

সাতক্ষীরার চারটি আসনে, সাতক্ষীরা-১ আসনে বিএনপি এগিয়ে, সাতক্ষীরা-২, ৩ ও ৪ আসনে জামায়াত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ভোট বিভক্তি চূড়ান্ত ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।

যশোরের ছয়টি আসনের তিনটিতে জামায়াত এগিয়ে, একটিতে বিএনপি, দু’টি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু এলাকায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং জামায়াতকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

চুয়াডাঙ্গার দু’টি আসনে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে তীব্র লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নড়াইলে একটি আসনে বিএনপি এগিয়ে এবং অন্যটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এগিয়ে, যা দলের আনুষ্ঠানিক মনোনীত প্রার্থীর জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ঝিনাইদহের চারটি আসনের মধ্যে বিএনপি একটিতে, জামায়াত একটিতে এগিয়ে এবং দু’টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দ্বিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী সমর্থনের কারণে মাগুরার দু’টি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছে। কুষ্টিয়ায় চারটি আসনের মধ্যে দু’টিতে বিএনপি এগিয়ে, অন্য দু’টিতে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মেহেরপুরের দু’টি আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কথা বলছেন ভোটাররা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অনেক আসনে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে ভোটার উপস্থিতি, শেষ মুহূর্তের জোট এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাবের ওপর।
 

স্বদেশ বিভাগের আরো খবর

Link copied!